রোজা রেখে চুল, দাড়ি, নখ এবং অবাঞ্ছিত লোম কাটা যাবে কিনা?

রোজা রেখে

আপনারা কি রোজা রেখে নখ, দাড়ি, চুল এবং অবাঞ্ছিত লোম কাটা যাবে কিনা সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় প্রবেশ করেছেন। আজকের এই আলোচনায় আমরা রোজা রেখে নখ, দাড়ি, চুল ও নাভির নিচের চুল কাটা যাবে কিনা সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাই এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের আজকের এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।পবিত্র মাহে রমজানে রহমতের ১০ দিনের আমল ও ফজিলত 

রোজা রেখে নখ কাটা যাবে কিনা

রোজা রেখে নখ কাটা যাবে না এমন ভ্রান্ত ধারণা আমাদের সমাজে রয়েছে।

কিন্তু রোজা রেখে কেউ যদি হাত বা পায়ের নখ কাটে তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না। রোজা অবস্থায় নখ কাটা জায়েজ। একারণে রোজা মাকরুহও হবে না। এটি পরিষ্কার পরিছন্নতার একটি অংশ। এর সাথে রোজার কোনো সংযোগ নেই। বরং নখ বড়ো হলে সাথে সাথে কেটে ফেলতে হবে। রমজান মাস নিয়ে ক্যাপশন, এসএমএস ও স্ট্যাটাস পিক

যেহেতু নখ কাটায় রক্ত প্রবাহিত হয় না। আর এটি সাধারণত দিনের বেলাতেই মানুষ করে এবং একইসাথে রোজাও মানুষ দিনের বেলাতেই রাখে।

এ সম্পর্কে শায়খ মাহমুদুল হাসান বলেছেন, রোজা অবস্থায় নখ কাটতে কোনো অসুবিধা নেই। এর সঙ্গে রোজার কোনো সম্পর্ক নেই। রোজা রেখে দাড়ি সেভ করলেও রোজা ভাঙবে না।

দলিল:- সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩/৩৩; সুনানে কুবরা, বায়হাকি, হাদিস : ৮২৫৩; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ৯৩১৯।

রোজা রেখে দাড়ি কাটা যাবে কি

অনেকই মনে করেন রোজা রেখে দাড়ি কাটা যাবে না কিন্তু এটি সঠিক নয়।

বরং রোজার সাথে দাড়ি কাটার কোনো সম্পর্ক নাই। রোজা রাখা অবস্থায় দিনের যে কোনো সময় দাড়ি কাটা যাবে। তবে দাড়ি কাটার সময় একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। দাড়ি কাটার সময় যেন শরীরের কোনো অংশ কেটে গিয়ে রক্ত বের না হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, “রোজা রেখে শেভ করা যাবে না, এটা সম্পূর্ণ ভুল কথা। ইসলাম ধর্মে এমন কোন বিধান নেই বরং এটি স্বাস্থ্যসম্মত।

তবে সেভ করার মাধ্যমে নবীর সুন্নতের উপর আঘাত করা হয়। তবে এই কারণে রোজা ভাঙবে না কিন্তু রোজার উদ্দেশ্য পূর্ণতা পাবে না।

রোজা রেখে চুল কাটা যাবে কিনা

আমাদের সমাজে ভ্রান্ত ধারণা আছে যে রোজা রেখে চুল কাটা যাবে না। আসলে এটি সঠিক নয় বরং রোজা রেখে চুল কাটা যাবে। রোজা রেখে চুল কাটলে রোজার কোন ক্ষতি হবে না। চুল কাটার সাথে রোজা ভাঙ্গার কোন সম্পর্ক নেই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য চুল, অবাঞ্ছিত লোম কামানো বা ছাটাই করা করার বিধান আছে।

এই বিষয়ে মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক বলেন রোজার সঙ্গে নখ, চুল ও অবাঞ্ছিত লোম কাটার সঙ্গে কোনো যোগ সূত্র নেই। রোজা না হওয়ার কারণ হলো রোজা অবস্থায় পানাহার ও সহবাসের করলে।
দলিল:- হাদীস: ৭৪৬৮

তাই ভয় পাবার কোন কারণ নেই। রোজা অবস্থায় যেকোনো সময় কোন রোজাদার ব্যাক্তি চাইলে চুল কাটতে পারে।

রোজা রেখে নাভির নিচের লোম কাটা যাবে কি

আপনারা অনেকেই গুগলে রোজা রেখে নাভির নিচের লোম কাটা যাবে কিনা লিখে সার্চ দিয়ে থাকেন আপনাদের সুবিধার্থে এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

রোজা রেখে নাভির নিচের চুল বা অবাঞ্ছিত লোম কাটা যাবে। এর কোন নিষেধ নেই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এই অবাঞ্ছিত লোম কাটতে হবে। এর সাথে রোজার কোন যোগসূত্র নেই। রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় রোজা রেখে বঞ্চিত আলম কাটা যাবে।

এ সম্পর্কে বিশিষ্ট আলেম ডক্টর মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, রোজা অবস্থায় কেউ যদি অবাঞ্চিত লোম কাটেন, তাহলে তার রোজা নষ্ট হবে না। এটি জায়েজ। এটি মাকরুহও হবে না। রোজার সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নেই। পরিছন্নতার জন্য অনেক ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। উত্তম হলো এগুলো কেটে ফেলা।


রোজা রেখে চুল, দাড়ি, নখ এবং অবাঞ্ছিত লোম কাটা যাবে কিনা?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to top